বিপুল ভোটে আনোয়ারের জয়লাভ, হতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

0
179

মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টের একটি আসনের উপনির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দেশটির সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জয়লাভ করেছেন। উপনির্বাচনের প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায় পিকেপি সভাপতি আনোয়ার ইব্রাহিম জয়লাভ করেছেন। উপকূলীয় আসন পোর্ট ডিকসনের উপনির্বাচনে তিনি বেসরকারিভাবে জয়লাভ করেন। মালয়েশিয়ার একটি পত্রিকা এ খবর জানায়।
রাত ৮টা ২২ মিনিটে প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, আনোয়ার ইব্রাহিম ৩১ হাজার ৬৪ ভোট পেয়েছেন। নির্বাচন কমিশন জানায়, চূড়ান্ত টার্নআউট হচ্ছে ৫৮ দশমিক ৩ শতাংশ।
পিকেআরের দানিয়েল বালাগোপাল আবদুল্লাহ থেকে আনোয়ার অনেক বেশি ভোট পেয়েছেন। উল্লেখ্য, দানিয়েল ১৪তম সাধারণ নির্বাচনে অনেক কম ভোট পেয়ে এই আসনে জয়লাভ করেছিলেন।

বর্তমানে আনোয়ার ইব্রাহিম তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পাসের প্রার্থী থেকে ২৩ হাজার ৬৩৫ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী পেয়েছেন মাত্র সাত হাজার ৪২৯ ভোট।
উল্লেখ্য, ১৪তম সাধারণ নির্বাচনে ১৭ হাজার ৭১০ ভোট পেয়ে দানিয়েল জয়ী হয়েছিলেন।
মালয়েশিয়া কিনির এক বিশ্লেষণে বলা হয়, বারিসান ন্যাশনালের পক্ষ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা হলে ভোটের ফলাফল হয়তো ভিন্নও হতে পারত।
এই উপনির্বাচনে সাবেক আমনো নেতা মোহাম্মদ ঈসা আব্দুল সামাদসহ সব স্বতন্ত্রপ্রার্থী তাদের জামানত হারাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

ঈসা চার হাজার ২২৪ ভোট এবং আনোয়ারের সাবেক সহযোগী সাইফুল বুখারি আজলান মাত্র ১১২ ভোট পেয়েছেন। অন্য কয়েকজন প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা হচ্ছেÑ ৩৩৭, ২৪৩ ও ১৮০।

প্রথম পদক্ষেপ
মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম দেশের রাজনীতির কেন্দ্রে ফেরার চেষ্টা করছেন। তিনি পার্লামেন্ট আসনে শনিবারের উপনির্বাচনে জয়লাভ করছেন। এটি তার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে প্রথম পদক্ষেপ।
সম্প্রতি কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ঠিক দক্ষিণে অবস্থিত ছোট্ট শহর পোর্ট ডিকশনে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে আনোয়ার ইব্রাহিম সেখানে সমবেত জনতার মাঝে উপস্থিত হন। মঞ্চে উঠে তিনি প্রধানত মালয়ি ভাষায় বক্তব্য রাখেন। ইংরেজিতেও কিছু কথা বলেন। উপস্থিত চীনাদের খুশি করতে ম্যান্ডারিন ভাষায়ও কিছু কথা বলেন।
আনোয়ার বলেন, তিনি সব মালয়েশিয়ানের জন্য সংগ্রাম করছেন। তাদের কে কোত্থেকে এসেছেন এটি কোনো বিবেচ্য বিষয় নয়। আমরা সবাই একই পরিবারভুক্ত। শাটার লাগানো দোনপাঠের কাছে টাঙানো বিশাল ছামিয়ানার নিচে কয়েক শ’ লোক বসে তার বক্তব্য শোনেন। তারা হাততালি দিয়ে তাকে সমর্থন জানান।

সমকামিতার অভিযোগে ২০১৫ সালে তৃতীয়বারের মতো কারাভোগের পর তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হলে তিনি মুক্তি পান। আজকের উপনির্বাচনে জয়ী হতে পারলে মাহাথির মোহাম্মদের কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করার সুযোগ পাবেন। এক সময়ের বৈরী মাহাথির-আনোয়ারের ঐক্য মাহাথিরকে ফের দেশের অষ্টম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ করে দেয়।
কুয়ালালামপুরের কেআরএ গ্রুপের প্রধান গবেষক কেইথ লিয়োং বলেছেন, ‘আজকের নির্বাচনে আনোয়ার জিতলে তিনি ফের দেশের রাজনীতির প্রাণকেন্দ্রে ফেরার সুযোগ পাবেন। তিনি মাহাথিরের উত্তরাধিকারের দায়িত্ব গ্রহণের দিকে মনোনিবেশ করতে পারবেন। কিন্তু তিনি যদি হেরে যান তাহলে তা হবে তার বিশ্বাসযোগ্যতা ও তার প্রধানমন্ত্রিত্বের দাবির প্রতি বড় ধরনের আঘাত।’

আনোয়ারের নির্বাচনের জন্য পোর্ট ডিকশনের এই আসন যিনি ছেড়ে দিয়েছেন তিনি গত মে মাসের বিগত নির্বাচনে ১৭ হাজার ৭১০ ভোট পান। এর চেয়ে কম ভোটে জয়ী হলে তা দেশের নেতৃত্বের ওপর বিশেষ প্রভাব ফেলবে। পেনাং ইনস্টিটিউটের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী চিন হুয়াত বলেন, ‘বড় জয় প্রয়োজন, তবে তা সুষ্ঠু রাজনৈতিক উত্তরণ ও রাজনৈতিক স্থিতিশলতার জন্য কোনো পূর্বশর্ত নয়। তবে বড় জয় দরকার, কেননা দুর্বল জয় আনোয়ারের ক্ষমতায় আরোহণ ও উত্তরাধিকার প্রশ্নে ব্যাপকতর উন্মুক্ত লড়াইয়ে তার অবস্থানকে দুর্বল করে দেবে। অবশ্য মাহাথির ও আনোয়ারের মধ্যে এ ব্যাপারে চুক্তি রয়েছে। এখন মাহাথির ও আনোয়ারের মধ্যে কর্মের সুস্পষ্ট বিভাজন দরকার।’
দেশ পুনর্গঠন

চলতি সপ্তাহের প্রথম দিকে সাগর তীরবর্তী এক শহরে রাজনৈতিক সমাবেশে যোগদানের জন্য ২০ বছরেরও বেশি সময় পর প্রথম একসাথে মিলিত হন মাহাথির ও আনোয়ার। সে সময় সমকামিতার অভিযোগে নিজের এক সময়ে শিষ্য ও উত্তরাধিকার বলে গণ্য আনোয়ারকে প্রথম জেলে পাঠান তিনি। ওই সভায় হাজার হাজার মানুষ যোগদান করেন। মাহাথির বলেন, ‘আমি আশা করছি আমরা একসাথে কাজ করতে পারব। আমরা মাহাথির বা আনোয়ারের জন্য নয়, আমরা আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি ও মালয়েশীয় জনগণের জন্য কাজ করব। তার আমাদের ওপর দেশ পুনর্গঠনের দায়িত্ব ন্যস্ত করেছে।’

বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির দেশ মালয়েশিয়ার জন সংখ্যা তিন কোটির বেশি। দেশটির জনগণের বড় অংশ মালয়ি মুসলিম। তবে দেশটিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চীনা ও ভারতীয় রয়েছে। এ ছাড়া আদিবাসী লোকজনের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। সরকারি নীতি মালয়িদের অনুকূলে হওয়ায় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর কিছুটা ক্ষোভ রয়েছে।
আনোয়ার ইব্রাহিম ১৯৭০-এর দশকে মালয়েশিয়ার মুসলিম যুব আন্দোলন বা আবিম নেতা হিসেকে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। মালয়েশিয়ার সমাজে ধর্ম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মে ইলেকশন, পিপলস ভিক্টরি গ্রন্থের রচয়িতা কি থুয়ান চেয়ি বলেন, ধর্মীয় বিষয়ে মধ্যপন্থা অবলম্বনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি হলেন আনোয়ার, কেননা তার ইসলাম সংশ্লিষ্টতার ঐতিহ্য রয়েছে। তিনি চাইলে মালয়েশিয়াকে একটি নমনীয় ইসলামি রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারবেন।

আনোয়ার রাজনীতিতে যোগদানের পর তর তর করে ওপরে উঠতে থাকেন। প্রথমে শিক্ষামন্ত্রী হন। তারপর তাকে অর্থমন্ত্রী করা হয় এবং সব শেষে উপপ্রধানমন্ত্রী হন। তখন তাকে মাহাথিরের সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী বলে মনে করা হতো।


Warning: A non-numeric value encountered in /home/subarta/public_html/wp-content/themes/Newspaper/includes/wp_booster/td_block.php on line 1008