সংসদ নির্বাচনের শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি

0
151

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়। সামনের দিনগুলোতে ইসির কী ধরনের কাজ কখন করা হবে সেটির একটি কর্মপরিকল্পনাও চূড়ান্ত করেছে।

আগামী ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় কমিশনের সভায় এসব কাজের অগ্রগতি তুলে ধরা হবে। বিষয়টি বৈঠকের এজেন্ডাভুক্ত করা হয়েছে। ওই বৈঠকে আগামী সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে কিনা- সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এদিকে রেওয়াজ অনুযায়ী সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সময় এবারও ভাষণ দেবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। ওই ভাষণের খসড়ায় সব দলকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার আহ্বান আসছে।

ইসি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। প্রসঙ্গত, ইসির হিসাব অনুযায়ী আগামী ৩০ অক্টোবর কাউন্টডাউন শুরু হবে। আগামী ২৮ জানুয়ারির মধ্যে সংসদ নির্বাচন করতে হবে। সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেসুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক কাজ প্রায় শেষ। সামনের দিনে কী কী ধরনের কাজ করতে হবে তার একটি চেকলিস্ট তৈরি করা হয়েছে। কমিশন সভায় প্রস্তুতির বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। এ বিষয়টি নির্বাচন কমিশন ঠিক করবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনের গতানুগতিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি। নির্বাচনী সামগ্রী কেনা ও বিভিন্ন ধরনের ফরম মুদ্রণের কাজ চলছে। তবে নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ করার বিষয়ে ইসির বাড়তি পদক্ষেপ এখনও নেই।

তফসিল ঘোষণার আগে লেভেল প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিত করার বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার পরিকল্পনা নেই কমিশনের। তারা আরও জানান, আগামী ১৫ অক্টোবর কমিশনের বৈঠকের কয়েক দিন পরই আরেকটি বৈঠক ডাকা হবে। ওই বৈঠকে নির্বাচনের তফসিল চূড়ান্ত হবে। ওই বৈঠকের দিনই সিইসি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন ও তফসিল ঘোষণা করবেন। সিইসির ভাষণের খসড়া তৈরি করেছে ইসি সচিবালয়। এখন ওই ভাষণ সিইসি নিজেই চূড়ান্ত করছেন।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় কমিশন সভায় দুটি এজেন্ডা রেখে সভার নোটিশ দেয়া হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে- একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে কমিশনকে অবহিত করা এবং হিজড়া জনগোষ্ঠীকে ভোটার তালিকায় আলাদা লিঙ্গ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে বিদ্যমান বিধি সংশোধন করা। এর বাইরে বৈঠকে ইভিএম কার্যক্রমের অগ্রগতি ও করণীয় নির্ধারণ শীর্ষক আরেকটি এজেন্ডা রাখতে নির্দেশনা দিয়েছেন সিইসি।

আরও জানা গেছে, নির্বাচনের প্রস্তুতির কর্মপরিকল্পনায় কমবেশি ১০০টি কাজ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে বৈঠক, নির্বাচনের ম্যানুয়েল প্রণয়ন ইত্যাদি। কমিশন আশা করছে, সংসদের আগামী অধিবেশনেই গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধনী পাস হবে। এর পরই নির্বাচনী বিধিমালা সংশোধন ও নির্বাচনী ম্যানুয়েল তৈরি করা হবে।


Warning: A non-numeric value encountered in /home/subarta/public_html/wp-content/themes/Newspaper/includes/wp_booster/td_block.php on line 1008