রাশিয়ায় বাংলাদেশ ফিজিক্স অলিম্পিয়াড দল

0
389

১৮তম এশিয়ান ফিজিক্স অলিম্পিয়াড চলছে রাশিয়ার ইয়াকুস্ক শহরে। এশিয়ার বিজ্ঞানভিত্তিক বৃহত্তম অলিম্পিয়াডে চতুর্থবারের মত বাংলাদেশ ফিজিক্স অলিম্পিয়াড দল অংশ নিয়েছে। বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করছে ছয় প্রতিযোগি। নটরডেম কলেজের তাওসিফ আহসান এবং তাহামিদ মোসাদ্দেক, সেন্ট যোশেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইরতিজা ইরাম, কুমিল্লা জিলা স্কুলের রিফাকাত আলীম রাশকি, চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের আবরার আল শাদীদ, চট্টগ্রাম কলেজের রাফিদ বিন আজাদ। তারা এ বছর ফিজিক্স অলিম্পিয়াডের জাতীয় পর্যায়ে ভাল করে এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার সুযোগ পায়।
গত ১ মে এশিয়ান ফিজিক্স অলিম্পিয়াডের অতিথি অভ্যর্থনা এবং নিবন্ধনের মাধ্যম অলিম্পিয়ডের কার্যক্রম শুরু হয়। পদার্থবিজ্ঞানের বিভিন্ন সমস্যার তাত্ত্বিক এবং ব্যবহারিক সমাধান করবে বিভিন্ন দেশের খুদে পদার্থবিদেরা। ৯ মে সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এশিয়ান ফিজিক্স অলিম্পিয়াডের কার্যক্রম শেষ হবে। ছয় প্রতিযোগির বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ ফিজিক্স অলিম্পিয়াডের কোচ ড. এম আরশাদ মোমেন এবং বাংলাদেশ ফিজিক্স অলিম্পিয়াডের সাধারণ সম্পাদক এফ এ জাহাঙ্গীর মাসুদ।
বাংলাদেশ চতুর্থবারের মত এশিয়ান ফিজিক্স অলিম্পিয়াডের আসরে অংশ নিচ্ছে। প্রতিবছর অংশ নিয়ে বাংলাদেশ দল পুরষ্কার নিয়ে আসছে। দলটির প্রস্তুতির সুবিধার্থে বাংলাদেশ ফিজিক্স অলিম্পিয়াডের অফিসে কয়েকটি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণ দেন বাংলাদেশ ফিজিক্স অলিম্পিয়াডের কোচ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. এম আরশাদ মোমেন, যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির ছাত্র মোহাম্মদ ফাহিম তাজওয়ার, সুপান্থ রক্ষিত, প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির ছাত্র আজমাইন ইকতেদার, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সৈকত জাহান শুভ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অর্পন পাল এবং গতবছর আন্তর্জাতিক ফিজিক্স অলিম্পিয়াডে ব্রোঞ্জ মেডেল বিজয়ী রাজশাহী কলেজের ছাত্র ফাহিম তাজওয়ার স্বচ্ছ।
প্রতিযোগী রিফাকাত আলীম রাশকি রাশিয়ায় যাওয়ার পূর্বে জানান, আমি একবছর ধরে ফিজিক্স অলিম্পিয়াডের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান করে সমস্যাগুলোর ধরন বুঝার চেষ্টা করেছি এবং সেভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি। ফলে জাতীয় পর্যায়ের অলিম্পিয়াডে ভাল করতে পেরেছি। এখন রাশিয়ায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারছি।
ক্যাম্পের প্রশিক্ষক আজমাইন ইকতেদার জানান, ‘এশিয়ান ফিজিক্স অলিম্পিয়াডে এশিয়ার সেরা দেশগুলোর সাথে প্রতিদ্বন্দিতা করতে হয়। এখানে প্রবলেম ধরতে পারা, সময়জ্ঞান এবং ব্যবহারিক খুবই গুরুপূর্ণ। আমরা বিগত বছরের প্রতিযোগিতা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা, ব্যবহারিকে ভাল করার কৌশল এবং প্রবলেম সলভিং নিয়ে হাতেকলমে ধারণা দিচ্ছি। ’
এশিয়ান ফিজিক্স অলিম্পিয়াডে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সদস্যরা অংশ নিয়ে থাকে। ফিজিক্স অলিম্পিয়াডে বিশ্বের বাঘা বাঘা দেশ চীন, জাপান, থাইল্যান্ড, তাইওয়ানসহ শক্তিশালী দেশের সদস্যরা এ অঞ্চলে লড়ে থাকে। ইতোমধ্যে চার বছর ধরে বাংলাদেশ দল এ আসরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পুরষ্কার অর্জন করায় উদীয়মান শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ ফিজিক্স অলিম্পিয়াডের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর মাসুদ জানান, ‘এবছর আমাদের দলে বৈচিত্র্য রয়েছে। শিক্ষার্থীরা গত কয়েক বছর ধরে ফিজিক্স অলিম্পিয়াড নিয়ে আলাদা করে প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতিবছর বাংলাদেশ দলের সদস্যরা এশিয়ান ফিজিক্স অলিম্পিয়াডে পুরষ্কার পায়। আমরা রাশিয়ায় সাফল্যের বিষয়ে আশাবাদী। ’
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ফিজিক্স অলিম্পিয়াডের মিডিয়া পার্টনার কালেরকণ্ঠ এবং ইভেন্ট পার্টনর শুভসংঘ।


Warning: A non-numeric value encountered in /home/subarta/public_html/wp-content/themes/Newspaper/includes/wp_booster/td_block.php on line 1008