চা–গাছের জীবনরহস্য উন্মোচন

0
685

চা–গাছের জীবনরহস্য উন্মোচন করেছেন উদ্ভিদবিজ্ঞানীরা। চীনের একদল উদ্ভিদবিজ্ঞানী ক্যামেলিয়া সাইনেনসিস—বৈজ্ঞানিক নামের এই গাছের জীবনরহস্য বা জিনোম কোড উন্মোচন করেছেন। এই গাছের পাতা থেকে বিশ্বজুড়ে ব্ল্যাক, গ্রিনসহ সব ধরনের চা উৎপাদন করা হয়।

চা–গাছের জীবনরহস্য উন্মোচনের ফলে এখন চায়ের মান উন্নত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি ওষুধ ও প্রসাধন সামগ্রীতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তা ছাড়া এ গবেষণার মাধ্যমে চায়ের স্বাদ এনে দেয় যে রাসায়নিক পদার্থগুলো, সেগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত জানা সম্ভব হয়েছে।

গবেষণায় নেতৃত্ব দেন চীনের কুনমিং ইনস্টিটিউট অব বোটানির উদ্ভিদ জিনবিজ্ঞানী লিঝি গাও। তিনি বলেন, ‘চায়ের অনেক বৈচিত্র্যপূর্ণ স্বাদ রয়েছে। তবে কোন বিষয়টি বা কোন জিনগত বৈশিষ্ট্যটি চায়ের মূল স্বাদ তৈরিতে ভূমিকা রাখে, সেটাই রহস্য। জিনগত মানচিত্র গঠন এবং ক্রমানুসারে সাজানোর প্রযুক্তির যুগলবন্দীর মাধ্যমে আমরা চা–গাছের হালনাগাদ জিনোম নিয়ে কাজ করছি, যার মাধ্যমে চায়ের কয়েক ধরনের গন্ধের উৎস অনুসন্ধান করা হবে।’

ক্যামেলিয়া গ্রুপের মধ্যে শতাধিক প্রজাতি রয়েছে। তবে এর মধ্যে শুধু ক্যামেলিয়া সাইনেনসিস প্রজাতির গাছই বাণিজ্যিকভাবে চা উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হয়।

গবেষকেরা দেখেছেন, এই চা-গাছের মধ্যে উচ্চমাত্রার রাসায়নিক রয়েছে, যা চায়ের স্বতন্ত্র স্বাদ তৈরি করে। এই রাসায়নিকগুলোর মধ্যে রয়েছে ফ্লেভোনয়েডস ও ক্যাফেইন। ক্যামেলিয়া গ্রুপের অন্য প্রজাতিগুলোর মধ্যে ওই রাসায়নিকগুলো রয়েছে কম মাত্রায়।

যুক্তরাজ্যের কিউ রয়্যাল বোটানিক গার্ডেনসের ডেপুটি ডিরেক্টর অব সায়েন্স মনিক সাইমন্ডস (গবেষণার সঙ্গে যুক্ত নন) বলেন, এই গবেষণাটি চায়ের জিনগত বৈশিষ্ট্যের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেবে। তিনি বিবিসিকে বলেন, ‘মোটের ওপর এই গবেষণার ফল চা-গাছের বংশবিস্তারে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব সৃষ্টি করবে। শুধু তা–ই নয়, ওষুধ উৎপাদন ও প্রসাধন সামগ্রীতে ব্যবহৃত অন্য গাছের বংশবিস্তারের ওপরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। কেননা ওষুধ বা প্রসাধন সামগ্রী উৎপাদনে অন্য গাছের যৌগের সঙ্গে প্রায়ই চায়ের মধ্যে থাকা যৌগ যুক্ত করা হয়।
চা গাছের জীবনরহস্য উন্মোচন করতে গবেষকদের পাঁচ বছরের বেশি সময় লেগেছে। চা–গাছের জিনোমের আকার কফিগাছের চেয়ে চার গুণ বড়।

দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীদের সঙ্গে কাজ করা অধ্যাপক লিঝি গাও বলেন, ‘আমাদের গবেষণাগার সফলভাবে ২০টি উদ্ভিদের জীবনরহস্য ধারাবাহিকভাবে সাজিয়েছে। তবে চা–গাছের জিনোম নিয়ে কাজ করাটা ছিল কঠিন।’